মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে স্বর্ণের দাম। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিনি শপথ গ্রহণের পর থেকে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে, যা প্রভাব ফেলতে পারে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে। এতে নিরাপদ বিনিয়োগের আশ্রয় খাত হিসেবে বাড়ছে স্বর্ণের চাহিদা। ফলে প্রভাব পড়ছে মূল্যবান ধাতুটির দামে। গতকাল বাজার বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করতে শুরু করেছেন। তিনি জানুয়ারিতে শপথ গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ডলারের নিম্নমুখী বিনিময় হার ও ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে গতকালও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
স্পট মার্কেটে গতকাল মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়েছে দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য পৌঁছেছে ২ হাজার ৯০০ ডলার ৪৭ সেন্টে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে এ সময় দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৯১২ ডলারে স্থির হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের নীতির কারণে কিছু বিনিয়োগ কৌশল যেমন ডলারের বিনিময় হার শক্তিশালী হওয়া, ট্রেজারি ইল্ড বা বিটকয়েনের মূল্যবৃদ্ধির যে প্রত্যাশা ছিল তা পূর্ণ হয়নি। পাশাপাশি এসঅ্যান্ডপি ৫০০ স্টক সূচকও ২ শতাংশের বেশি বাড়েনি। এসব পরিস্থিতি চলমান সময়ের বাজার জটিলতা ও অনিশ্চয়তা নির্দেশ করছে।
আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসির প্রিসিয়াস মেটালস অ্যানালিস্ট জেমস স্টিল বলেন, ‘বাণিজ্যে ধীরগতি এলে স্বর্ণের দাম সাধারণত ঊর্ধ্বমুখী হয়। কভিড-১৯ মহামারী সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।’
তিনি আরো বলেন, ‘শুল্ক আরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করবে। ফলে আরো দাম বাড়বে স্বর্ণের।’
বাজার বিশ্লেষকরা জানান, নির্বাচনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বর্ণের মজুদ ১১৬ শতাংশ বেড়েছে। এটিও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। মূল্যবান ধাতু পরিশোধন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এমকেএস পাম্পের বিশ্লেষক নিকি শিলস বলেন, ‘ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ও স্বর্ণের দামের মধ্যে একটি সম্পর্ক আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বমুখী ক্রয় এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
এদিকে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে গত সপ্তাহে ইউবিএস ও সিটিগ্রুপ উভয়ই স্বর্ণের দামের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। সামনের দিনগুলোয় প্রতি ট্রয় আউন্সে মূল্যবান ধাতুটির দাম ৩ হাজার ডলারে উন্নীত হতে পারে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের দেয়া তথ্যানুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গত বছর এক হাজার টনের বেশি স্বর্ণ ক্রয় করেছে।